কী হতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী মৌসুমী   

Sep 29, 2026 - 14:10
 0  3
কী হতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী মৌসুমী   

ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও তারকা অভিনেত্রী মৌসুমী। ১৯৯৩ সালে তার অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায় এবং রেকর্ড সৃষ্টি করে। এরপর তার ক্যারিয়ারে শুধুই সাফল্যগাঁথা । জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ কোটি দর্শকের ভালোবাসায় তিনি ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকার গৌরব অর্জন করেন।

পেছনের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘স্কুলজীবনে কখনো ভাবতাম শিক্ষক হব। শিক্ষকরা খুব সুন্দর করে ক্লাস নেন। সবাই তাদের সম্মান করেন। এসব দেখেই মনের ভেতরে ভাবনা কাজ করত, শিক্ষক হব। কিন্তু নিয়তি বলে একটা কথা আছে? নিয়তি কাকে কখন কোথায় নিয়ে যাবে, আমরা কেউই জানি না।’

তিনি বলেন, ‘স্কুলজীবনে আরও ভাবতাম আইনজীবী হব। নামকরা উকিল হয়ে সুনাম অর্জন করব। কেন এমন ভাবনা কাজ করত, জানি না। কিশোর বয়সে এমন ভাবনা খেলা করত আপন মনে, একান্ত ভাবনায়।’

মৌসুমী আরও বলেন, ‘আবার কখনো কখনো ভাবতাম বিমানবালা হব, আকাশে আকাশে ঘুরে বেড়াব, নীল আকাশ হবে আমার ঠিকানা, দেশ থেকে দেশান্তরে যাব, কত কী দেখব। সারা পৃথিবী ঘুরব বিমানবালা হয়ে। কিন্তু ভাগ্যে তো এটাও ছিল না।’

প্রথম সিনেমা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকাই সিনেমায় আমার অভিষেক “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” সিনেমা দিয়ে। এই সিনেমাটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, ইতিহাস হয়ে আছে রূপালি জগতে। দর্শকদের জন্যই তা সম্ভব হয়েছে।’ 

মৌসুমী (Moushumi) - বাংলা মুভি ডেটাবেজ | Bangla Movie Databaseবাংলা মুভি  ডেটাবেজ

ঢালিউডে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম জীবনে পাক্ষিক আনন্দ বিচিত্রার ফটোসুন্দরী নির্বাচিত হই। শুরুতে আমি এগিয়ে ছিলাম না, পরে দর্শকদের ভোটে এগিয়ে যাই এবং চ্যাম্পিয়ন হই। শোবিজে শুরুর গল্প বলতে গেলে এই প্রতিযোগিতার কথা বলতেই হবে। তখন সম্পাদক ছিলেন শ্রদ্ধেয় শাহাদত চৌধুরী।’

সিনেমায় আসার আগে মৌসুমী একদিন নায়িকা শাবনাজের শুটিং দেখতে গিয়েছিলেন। সেই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একদিন শাবনাজের সিনেমার শুটিং দেখতে গিয়েছিলাম। সিনেমার নাম মনে নেই। আব্বুর সঙ্গে গিয়েছিলাম। আব্বুর সঙ্গে পরিচালকের পরিচয় ছিল। শুটিং দেখে ভালো লেগেছিল।’

‘আনন্দ বিচিত্রা সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সেরা হয়ে পরপর তিনটি মডেলিংয়ের কাজ করি। মডেলিং করে পরিচিতি আসে এবং জনপ্রিয়তা পাই’, যোগ করেন তিনি। 

মৌসুমী বলেন, ‘এরপরই শুরু হয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব। এক এক করে প্রস্তাব আসতে শুরু করে। কিন্তু বাসা থেকে কেউ রাজি ছিল না। আমার নিজেরও শুরুতে তেমন আগ্রহ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার ভাই তখন সাংবাদিকতা করেন। ফটোসুন্দরী হওয়ার পর গুলজার ভাই আমাদের বাসায় এসেছিলেন ইন্টারভিউ করতে। একদিন আব্বুর সঙ্গে বাসায় দেখা করতে আসেন তিনি । সঙ্গে করে নিয়ে আসেন সোহানুর রহমান সোহান ভাইকে। সেদিনই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাই।’

নস্টালজিক হয়ে তিনি বলেন, ‘একটা সময় ভিসিআরে সিনেমা দেখার বেশ প্রচলন ছিল। আমিও দেখেছি। সবচেয়ে বেশি দেখেছি হিন্দি সিনেমা “কেয়ামত সে কেয়ামত তক”। আর সেই সিনেমা ঢালিউডেও রিমেক হবে একদিন এবং সেখানে আমিই নায়িকা হব, তা কখনো কল্পনা করিনি।’

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির সময়ের কথা বলতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পেল এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সিনেমার নাম মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এই সিনেমার গান মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। আমার ও সালমান শাহ জুটির সুনামও ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সেই সময় এই সিনেমা দেখেননি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে, এমন দর্শক খুঁজে পাওয়া কঠিন।’

নিজের সিনেমা প্রথম প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তির পর আমিও হলে গিয়ে দেখেছিলাম। প্রথম দেখেছিলাম ফার্মগেট আনন্দ হলে। ওই স্মৃতি ভুলবার নয়।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।